বুধবার (৭ অক্টোবর) বেলা ১১টার দিকে আশুলিয়া থানায় আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য জানান সাভার সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার রাকীবুল হাসান ঈশান।
গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা হলেন—নাদিম হাসান হৃদয় (৩৩) ও তার দ্বিতীয় স্ত্রী নাছিমা আক্তার (৩১)। পুলিশ জানায়, নাদিম ময়মনসিংহের পাগলা থানার নেত্তকা গ্রামের মৃত আব্দুল গফুরের ছেলে এবং নাছিমা কুমিল্লার বুড়িচং থানার কংশনগর খানবাড়ীর মোবারক হোসেন খানের মেয়ে।
পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী, মঙ্গলবার (৬ অক্টোবর) সকালে ময়মনসিংহের ভালুকা থানার মনোহরপুর এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়। পরে তাদের হেফাজত থেকে শিশু সাইমকে অক্ষত অবস্থায় উদ্ধার করা হয়।
সাইম আশুলিয়ার পলাশবাড়ী এলাকার আলহাজ্ব আব্দুল রশিদ মডেল স্কুলের প্লে শ্রেণির শিক্ষার্থী। গত ৩ অক্টোবর বেলা সোয়া ১১টার দিকে স্কুল থেকে বাড়ি ফেরার পথে পলাশবাড়ী পশ্চিমপাড়া এলাকা থেকে তাকে অপহরণ করা হয় বলে পরিবারের অভিযোগ।
পুলিশ জানায়, শিশুটিকে অপহরণের পর ইমো অ্যাকাউন্টের মাধ্যমে পরিবারের কাছে বার্তা পাঠিয়ে দুই লাখ টাকা মুক্তিপণ দাবি করা হয়। মুক্তিপণ না দিলে শিশুটিকে হত্যার হুমকি দেওয়া হয় বলেও অভিযোগ রয়েছে।
এ ঘটনায় ৪ অক্টোবর পরিবারের পক্ষ থেকে আশুলিয়া থানায় নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন, ২০০০-এর ৭/৮/৩০ ধারায় মামলা করা হয়।
মামলার তদন্তে আশুলিয়া থানা পুলিশ তথ্যপ্রযুক্তি ও গোপন সংবাদের ভিত্তিতে ময়মনসিংহের ত্রিশাল ও ভালুকা এলাকায় অভিযান পরিচালনা করে। এরই ধারাবাহিকতায় ভালুকার মনোহরপুর এলাকায় অভিযান চালিয়ে নাদিম ও নাছিমাকে গ্রেপ্তার এবং শিশুটিকে উদ্ধার করা হয়।
পুলিশের দাবি, নাদিম হাসান হৃদয় এ অপহরণচক্রের মূলহোতা। ঘটনার সঙ্গে জড়িত অন্যদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তারে তদন্ত অব্যাহত রয়েছে।