পঞ্চগড়ের দেবীগঞ্জে আওয়ামী লীগ নেতার দায়ের করা একটি মামলায় হয়রানির শিকার হওয়ার অভিযোগ করেছেন মামলার কয়েকজন আসামি। তাদের দাবি, ঘটনার পেছনের কারণ এবং উভয় পক্ষের বক্তব্য যথাযথভাবে যাচাই না করেই মামলা করা হয়েছে। তারা নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত ঘটনা উদঘাটনের দাবি জানিয়েছেন।
ঘটনাটি ঘটেছে উপজেলার টেপ্রীগঞ্জ ইউনিয়নের বানেশ্বরপাড়া এলাকায়। এ ঘটনায় টেপ্রীগঞ্জ ইউনিয়ন আওয়ামী যুবলীগের সাবেক যুগ্ম আহ্বায়ক মো. শামসুল আলম ওরফে মিলন মেম্বার বাদী হয়ে দেবীগঞ্জ থানায় মামলা করেছেন বলে জানা গেছে।
মামলার আসামি মো. আব্দুল হান্নান ও মো. আলমের ভাষ্য, তাদের প্রায় দেড় মাস বয়সী একটি বাছুর এবং শামসুল আলম মিলন মেম্বারের পরিবারের একটি বাছুর একই এলাকায় চলাফেরা করত। গত ১৭ সেপ্টেম্বর দুপুরে বাছুর দুটি মিলন মেম্বারের পরিবারের খড়ের গাদার কাছে গিয়ে খড় খাওয়ার সময় তার ছোট ভাই মো. জাহিদ হাচান তাদের বাছুরটিকে লাঠি দিয়ে আঘাত করেন বলে অভিযোগ করেন তারা।
তাদের দাবি, বিষয়টি দেখে ৯০ বছর বয়সী তাদের বাবা আব্দুস সামাদ প্রতিবাদ করলে জাহিদ হাচান তার বাড়িতে প্রবেশ করে তার সঙ্গে বাকবিতণ্ডায় জড়িয়ে পড়েন। একপর্যায়ে আব্দুস সামাদকে ধাক্কা দিয়ে ফেলে দেওয়া এবং গলা চেপে ধরে মারধরের অভিযোগও করেন তারা।
পরে পরিবারের সদস্যরা আব্দুস সামাদকে রক্ষা করতে এগিয়ে এলে দুই পক্ষের মধ্যে উত্তেজনা তৈরি হয়।
একপর্যায়ে উভয় পক্ষের মধ্যে মারামারির ঘটনা ঘটে বলে দাবি করেন অভিযুক্তরা। এ সময় শামসুল আলম মিলন মেম্বার, জাহিদ হাচানসহ তাদের পরিবারের কয়েকজন সদস্য হামলা চালান বলেও অভিযোগ করেন তারা।
মামলার আরেক আসামি মো. আব্দুল আজিজ বলেন, আব্দুস সামাদ তার নানা। তার দাবি, সংঘর্ষের সময় শামসুল আলম মিলন মেম্বারের হাতে লাঠি এবং জাহিদ হাচানের হাতে ধারালো অস্ত্র ছিল। তিনি ওই ঘটনার ভিডিও মোবাইল ফোনে ধারণ করছিলেন।
পরবর্তীতে ভিডিওটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে তাকে মামলার এক নম্বর আসামি করা হয়েছে বলে দাবি করেন তিনি।
আব্দুল আজিজ বলেন, “ঘটনার সময় আমি শুধু মোবাইল ফোনে ভিডিও করছিলাম। পরে ভিডিওটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে।”
এদিকে স্থানীয় কয়েকজন বাসিন্দা নাম প্রকাশ না করার শর্তে দাবি করেন, আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে দলীয় প্রভাব কাজে লাগিয়ে শামসুল আলম মিলন মেম্বার ও তার পরিবারের সদস্যরা এলাকায় বিভিন্ন কর্মকাণ্ডে প্রভাব বিস্তার করতেন। তাদের বিরুদ্ধে ভূমি দখলসহ বিভিন্ন অভিযোগ রয়েছে বলেও তারা দাবি করেন।
তবে এসব অভিযোগের স্বতন্ত্র কোনো প্রমাণ পাওয়া যায়নি।
অভিযুক্তদের অভিযোগ, ঘটনার প্রকৃত কারণ ও উভয় পক্ষের বক্তব্য যাচাই না করেই মামলাটি রেকর্ড করা হয়েছে। তারা নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে ঘটনার প্রকৃত সত্য বের করে আনার পাশাপাশি হয়রানি বন্ধের দাবি জানিয়েছেন।
এ বিষয়ে দেবীগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মুসা মিয়া বলেন, “মামলা রুজু হয়েছে। আসামিরা বর্তমানে জামিনে রয়েছেন।”