মঙ্গলবার, ০৬ অক্টোবর ২০২৬, ০৭:২৩ অপরাহ্ন
শিরোনাম :
ফুলের বদলে গাছের চারা দিয়ে এমপিকে সাংবাদিকদের শুভেচ্ছা বিশ্ব বসতি দিবসের সেমিনারে প্রতিমন্ত্রীর সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ আলহাজ্ব লায়ন খান আকতারুজ্জামানের পলিমাটির আশীর্বাদ: যমুনা চরে মাসকলাই চাষে বাম্পার ফলনের আশা। লায়ন্স ক্লাবের সদস্য হলেন ঢাকা প্রেসক্লাব ও আন্তর্জাতিক প্রেসক্লাবের সভাপতি আওরঙ্গজেব কামাল ডেঙ্গু প্রতিরোধে জয়পুরহাটে জামায়াতের পরিচ্ছন্নতা অভিযান দেবীগঞ্জে আওয়ামী লীগ নেতার মামলায় হয়রানির অভিযোগ, নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি লামার ফাইতংয়ে ১৩ ইটভাটাকে ২৯ লাখ টাকা জরিমানা থানচিতে পর্যটকবাহী জিপ উল্টে দুই পর্যটক নিহত, আহত ৫ আইডিআরএর উদ্যোগে তৃতীয় দফায় ২৬ কোটি ৩৬ লাখ টাকার বীমা দাবি পরিশোধ, উপকৃত ৭,৬৪১ পলিসিধারী দুর্গাপূজায় নিরাপত্তা জোরদার, গুজব-যানজট নিয়ন্ত্রণে বিশেষ ব্যবস্থা:-

পলিমাটির আশীর্বাদ: যমুনা চরে মাসকলাই চাষে বাম্পার ফলনের আশা।

মোঃ আব্দুর রব মনসুর, কাজিপুর উপজেলা প্রতিনিধি।
  • প্রকাশের সময় : সোমবার, ৫ অক্টোবর, ২০২৬
  • ১৪ বার পড়া হয়েছে

যমুনা নদীবেষ্টিত সিরাজগঞ্জের দিগন্তজোড়া চরাঞ্চল এখন ভরে উঠেছে সবুজের সমারোহে। প্রতি বছর বন্যায় ফসল হারিয়ে দিশেহারা হওয়া নদীপাড়ের কৃষকরা এবার ঘুরে দাঁড়ানোর স্বপ্ন দেখছেন। কৃষি বিভাগের পরামর্শে যমুনার উর্বর পলিমাটিতে পুরোদমে শুরু হয়েছে মাসকলাই চাষ। গত বছরের ভালো লাভ এবং সরকারি প্রণোদনায় উদ্বুদ্ধ হয়ে চলতি মৌসুমে এ অঞ্চলের কৃষকরা মাসকলাই চাষে চরম ব্যস্ত সময় পার করছেন।

কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর সূত্রে জানা গেছে, চলতি মৌসুমে সিরাজগঞ্জ জেলার ৯টি উপজেলার বিভিন্ন স্থানে মোট ৬ হাজার ৮৫০ হেক্টর জমিতে মাসকলাই চাষের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছিল। অতিবৃষ্টি ও বন্যার কারণে লক্ষ্যমাত্রা কিছুটা ব্যাহত হলেও ইতোমধ্যে কৃষকরা প্রায় ৫ হাজার হেক্টর জমিতে কলাই চাষ সম্পন্ন করেছেন। সাধারণত বন্যা-পরবর্তীতে পানি নেমে যাওয়ার পরপরই জুলাই-আগস্ট মাসে এই মাসকলাইয়ের বীজ রোপণ করা হয়। বিশেষ করে কাজিপুর উপজেলার চরাঞ্চলের ছয়টি ইউনিয়নে এই ফসলের ফলন সবচেয়ে বেশি হচ্ছে।

চরাঞ্চলের কৃষকদের সাথে কথা বলে জানা যায়, বন্যার পর ফেলে রাখা জমিতে বাড়তি আয় হিসেবে মাসকলাই তাদের জন্য আশীর্বাদ হয়ে দাঁড়িয়েছে। কাজিপুর ইউনিয়নের চাষি হোসেন মিয়া জানান, চলতি বছর তিনি দুই বিঘা জমিতে মাসকলাই চাষ করেছেন। এই চাষে সার ও সেচের খরচ যেমন কম, তেমনি লাভের পরিমাণও বেশি। মনসুর নগর এলাকার চাষি আসলাম জানান, নিজের তিন বিঘা জমির পাশাপাশি এবার আরও এক বিঘা জমি বর্গা নিয়ে তিনি মাসকলাই চাষ করেছেন এবং কৃষি বিভাগ থেকে নিয়মিত পরামর্শ পাচ্ছেন। অন্যদিকে পানা গাড়ি এলাকার চাষি রহিস উদ্দিন জানান, বন্যার পর পতিত জমিতে বাড়তি আয় হিসেবে প্রতি বিঘায় ৫ থেকে ৭ মণ পর্যন্ত মাসকলাই পাওয়া যায়। এছাড়া মাসকলাই আবাদের পর ওই জমিতে ধানের আবাদ করলে ফলন অনেক ভালো হয়।

কৃষি কর্মকর্তারা জানান, চরের কৃষকদের অর্থনৈতিকভাবে স্বাবলম্বী করতে তারা নিরলস কাজ করে যাচ্ছেন। কাজিপুর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ মো. শরিফুল ইসলাম বলেন, “কৃষকরা যাতে অধিক লাভবান হতে পারেন, সে জন্য কৃষি অফিস সব সময় তাঁদের পাশে আছে। উৎপাদন বাড়াতে ও কৃষকদের উৎসাহিত করতে আমরা বিনামূল্যে বীজ ও সার বিতরণ করেছি।”

সার্বিক বিষয়ে কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক এ. কে. এম. মনজুরে মাওলা জানান, এবার কাজিপুর, চৌহালী, সিরাজগঞ্জ সদরসহ পুরো জেলায় ৬ হাজার ৮৫০ হেক্টর জমিতে মাসকলাই চাষের লক্ষ্যমাত্রা ছিল। কৃষকদের সরকারিভাবে প্রয়োজনীয় প্রণোদনা দেওয়া হয়েছে। অতিবৃষ্টি ও বন্যার কারণে চাষের লক্ষ্যমাত্রা কিছুটা ব্যাহত হলেও কৃষকদের আন্তরিক প্রচেষ্টা ও চরের উর্বর পলিমাটির কারণে এবারও মাসকলাইয়ের বাম্পার ফলন হবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।

বন্যার ক্ষয়ক্ষতি কাটিয়ে যমুনার চরাঞ্চলে মাসকলাইয়ের এই বিপুল চাষ সিরাজগঞ্জের গ্রামীণ অর্থনীতিতে এক নতুন সম্ভাবনার দুয়ার খুলে দিয়েছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

এ বিভাগের আরো সংবাদ

আজকের নামাজের সময়সুচী

  • ফজর
  • যোহর
  • আছর
  • মাগরিব
  • এশা
  • সূর্যোদয়
  • ৪:৪০ পূর্বাহ্ণ
  • ১১:৫০ পূর্বাহ্ণ
  • ১৬:০৩ অপরাহ্ণ
  • ১৭:৪৫ অপরাহ্ণ
  • ১৮:৫৮ অপরাহ্ণ
  • ৫:৫১ পূর্বাহ্ণ
©2026 All rights reserved
Design by: POPULAR HOST BD
themesba-lates1749691102