নওগাঁর বদলগাছী উপজেলার পাহাড়পুর ইউনিয়নের চাপাডাল মৌজায় জমির দলিল সম্পাদনকে কেন্দ্র করে সাব-রেজিস্ট্রি অফিসের দলিল লেখক মোঃ আব্দুর রাজ্জাকের বিরুদ্ধে অর্থ আত্মসাৎ ও প্রতারণার গুরুতর অভিযোগ উঠেছে।
ভুক্তভোগী মৌসুমী আক্তারের দাবি, তাঁর বাবার মৃত্যুর পর পৈতৃক সূত্রে প্রাপ্ত জমি তিন বোনের কাছ থেকে নিজের নামে রেজিস্ট্রি করার জন্য তিনি দলিল লেখক আব্দুর রাজ্জাকের শরণাপন্ন হন। প্রক্রিয়া চলাকালে খতিয়ানের অন্যান্য শরিকের জমির খাজনা পরিশোধ ও আনুষঙ্গিক কাগজের অজুহাতে প্রথমে তাঁর কাছ থেকে ৪০ হাজার টাকা নেওয়া হয়। পরবর্তীতে হেবা দলিলের কথা বলে আরও ২০ হাজার টাকা দাবি করা হলে, সব মিলিয়ে মোট ৬০ হাজার টাকার বিনিময়ে একটি বিক্রয় দলিল সম্পাদন করা হয়।
তবে দলিল সম্পাদনের পর ভুক্তভোগী জানতে পারেন, পুরো খতিয়ানের খাজনা পরিশোধ না করে কেবল তাঁর বাবার অংশের সাড়ে চার শতাংশ জমির খাজনা মেটানো হয়েছে। এতে প্রথম দফায় নেওয়া ৪০ হাজার টাকার ব্যয় নিয়ে ধোঁয়াশার সৃষ্টি হয়েছে।
ভূমি অফিসের ডুপ্লিকেট কার্বন রশিদ (ডিসিআর) পর্যালোচনায় দেখা যায়, ২০২৬-১০০০০৭ নম্বর মিউটেশন খতিয়ানের বিপরীতে সরকারি ডিসিআর ফি বাবদ মাত্র ১ হাজার ১০০ টাকা জমা হয়েছে। অবশিষ্ট অর্থের কোনো বৈধ সরকারি চালান বা রসিদ সংশ্লিষ্ট দলিল লেখক দেখাতে পারেননি বলে ভুক্তভোগী অভিযোগ করেন।
অতিরিক্ত অর্থ নেওয়ার বিষয়ে দলিল লেখক মোঃ আব্দুর রাজ্জাকের নিকট জানতে চাইলে তিনি বলেন, দ্রুত কাজ সম্পন্ন করা এবং দপ্তরের বিভিন্ন পর্যায়ে ‘টেবিলে টেবিলে’ খরচ মেটাতেই এই অর্থ ব্যয় হয়েছে।
এ বিষয়ে বদলগাছী সাব-রেজিস্ট্রার মুঠোফোনে জানান, অনেক সময় সেবাগ্রহীতারা অসাবধানতাবশত মধ্যস্বত্বভোগী বা দালালের মাধ্যমে কাজ করাতে গিয়ে প্রতারণার শিকার হন, যা পরবর্তীতে জানালে দাপ্তরিকভাবে অনেক ক্ষেত্রেই ব্যবস্থা নেওয়ার সুযোগ সীমিত হয়ে পড়ে। তবে রেজিস্ট্রি কার্যালয়ের কোনো কর্মকর্তা বা কর্মচারী সরাসরি অনিয়মের সঙ্গে জড়িত থাকলে এবং তার সুনির্দিষ্ট তথ্যপ্রমাণ মিললে কঠোর প্রশাসনিক পদক্ষেপ নেওয়া হবে।
এদিকে ঘটনার সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ তদন্তসহ অতিরিক্ত আত্মসাৎ করা অর্থ ফেরত পাওয়ার দাবি জানিয়েছেন ক্ষতিগ্রস্ত পরিবার।