ঢাকার সাভারের আশুলিয়ায় নিষিদ্ধ ঘোষিত আওয়ামী লীগের মিছিল বের করার প্রস্তুতির অভিযোগে আটজনকে আটক করেছে পুলিশ। শুক্রবার (২৮ আগস্ট ২০২৬) সন্ধ্যায় আশুলিয়ার টঙ্গাবাড়ী এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাদের আটক করা হয়।
পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, টঙ্গাবাড়ী এলাকায় নিষিদ্ধ ঘোষিত আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা মিছিল বের করার প্রস্তুতি নিচ্ছেন—এমন তথ্যের ভিত্তিতে আশুলিয়া বাজার পুলিশ ফাঁড়ির উপপরিদর্শক (এসআই) আব্দুল হাইয়ের নেতৃত্বে পুলিশের একটি দল ওই এলাকায় অভিযান পরিচালনা করে।
পুলিশের উপস্থিতি টের পেয়ে মিছিলের প্রস্তুতি ছত্রভঙ্গ হয়ে যায়। এ সময় ঘটনাস্থল থেকে আটজনকে আটক করা হয়।
আটক ব্যক্তিরা হলেন—সিহাব (২২), জিহাদ (১৯), বিজয় (২২), নাসির (১৯), ইমরুল (১৯), রাজ (১৯), মাহফুজ (১৯) ও দুলাল (১৯)।
পুলিশের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, আটক সিহাবের পিতার নাম মো. জামির। তার স্থায়ী ঠিকানা পাবনা জেলার বেড়া থানার বাঙগাবাড়ি জুরদা এলাকায়। জিহাদ (১৯), পিতা জিল্লুর রহমান জালু, পাবনার সাঁথিয়া থানার গৌরিগ্রাম ইউনিয়নের গুগুদাও এলাকার বাসিন্দা।
বিজয় (২২), পিতা ফরিদ এবং নাসির (১৯), পিতা হাসান—দুজনেরই স্থায়ী ঠিকানা পাবনার সাঁথিয়া থানার নাগডেমরা ইউনিয়নের সোনাতলা এলাকায়। একই এলাকার বাসিন্দা ইমরুল (১৯), পিতা মো. হাবুল মিয়া এবং মাহফুজ (১৯), পিতা মুকুল।
অন্যদিকে রাজ (১৯), পিতা রাজ্জাক, পাবনার সুজানগর থানার উদয়পুর ইউনিয়নের হাটখালি এলাকার বাসিন্দা। দুলাল (১৯), পিতা মাসুদ মোল্লা, পাবনার বেড়া থানার চাকলা ইউনিয়নের বনগ্রাম এলাকার বাসিন্দা।
পুলিশ জানায়, প্রাথমিকভাবে পাওয়া তথ্য অনুযায়ী আটক আটজনই আশুলিয়ার বি-বাংলা এলাকার ছাপড়া মসজিদ সংলগ্ন একটি বাড়িতে ভাড়াটিয়া হিসেবে বসবাস করছিলেন।
পুলিশের দাবি, মিছিলের প্রস্তুতি ও সেখানে আটক ব্যক্তিদের সম্পৃক্ততার বিষয়টি যাচাই-বাছাই করা হচ্ছে। তাদের রাজনৈতিক পরিচয়, মিছিল আয়োজনের সঙ্গে সংশ্লিষ্টতা এবং ঘটনার প্রকৃত পরিস্থিতি খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
এ বিষয়ে আশুলিয়া থানা পুলিশ জানিয়েছে, আটক ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ার প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে। তদন্ত ও যাচাই-বাছাই শেষে তাদের বিরুদ্ধে পরবর্তী পদক্ষেপ নেওয়া হবে।
তবে আটক ব্যক্তিদের পক্ষ থেকে এ ঘটনায় তাদের কোনো বক্তব্য তাৎক্ষণিকভাবে পাওয়া যায়নি।
ঘটনার বিষয়ে পুলিশ পরবর্তীতে বিস্তারিত তথ্য জানাতে পারে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে।